জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া::
*বৃষ্টি ও দুর্বল ফসলরক্ষা বাঁধে উৎকণ্ঠায় কৃষক
সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় বোরো ধানের জন্য কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি এবং অনেক স্থানে ফসলরক্ষা বাঁধের দুর্বল অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন কৃষকরা। একদিকে বৃষ্টি ধানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এলেও অন্যদিকে শিলাবৃষ্টি ও সম্ভাব্য পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা হাওরপাড়ের মানুষের মনে তৈরি করেছে আশা-নিরাশার দোলাচল। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর ৩টার পর থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। হাওরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে হাওরের জমিতে বোরো ধানের শীষ বের হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। এ সময় অতিবৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি হলে ধানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় শিলাবৃষ্টির কারণে মাঠে থাকা সবজি চাষের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে পুরো হাওরাঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাহিরপুর উপজেলার শনি হাওরপাড়ের কৃষক ফরিদ মিয়া বলেন, ধানের অবস্থা এখন ভালো। বৃষ্টিতে উপকারই হয়েছে। কিন্তু শিলাবৃষ্টি হওয়ায় ভয় লাগছে। বৃষ্টি আরও বাড়লে কিংবা পাহাড়ি ঢল এলে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই উপজেলার মাটিয়ান হাওরপাড়ের কৃষক জামিল মিয়া বলেন, আমরা এই একটিই ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এই বোরো ধানই আমাদের পরিবারের জীবিকা। কিন্তু অনেক স্থানে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এতে আমাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকার প্রতিবছর ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিলেও অনেক ক্ষেত্রে কাজ সময়মতো শেষ হয় না এবং অনিয়মের অভিযোগ তো রয়েছেই। ফলে সামান্য বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলের খবর এলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হাওরাঞ্চলে। হাওর বাঁচাও আন্দোলন তাহিরপুর উপজেলার সাধারণ স¤পাদক তুজাম্মিল হক নাসরুম বলেন, সময়মতো ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় অনেক বাঁধ দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এখন যদি পাহাড়ি ঢল নামে, তাহলে বাঁধ ভেঙে কৃষকের কষ্টে ফলানো বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ স¤পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ অনেক জায়গায় সঠিকভাবে না হওয়ায় তা মজবুত হয়নি। কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত সংস্কার ও কঠোর নজরদারির দাবি জানান। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি বোরো ধানের বড় কোনো ক্ষতি হবে না। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক জানান, এক ফসলি বোরো ধান রক্ষায় প্রতিটি বাঁধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। শুরু থেকেই বাঁধ নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাওরাঞ্চলের কৃষকরা বলছেন, এখনই দুর্বল ফসলরক্ষা বাঁধগুলো মেরামত ও কঠোর তদারকি না করলে সামান্য পাহাড়ি ঢলেই সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরের বোরো ধান হুমকির মুখে পড়তে পারে। ফলে হাওরের কৃষকদের মনে এখন বৃষ্টি নিয়ে যেমন আশা, তেমনি শিলাবৃষ্টি ও সম্ভাব্য ঢল নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরের বাঁধের মাটি কাজ প্রায় শেষ। এখন ঘাস লাগানো ও দুর্মুজের কাজ হচ্ছে। কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর হাওরের বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এই সময়ে এসেও বাধের কাজ শেষ না হওয়ায় আরো ১৫ দিন সময় বাড়ানো হয়। এই মেয়াদ আজ রবিবার শেষ হচ্ছে। কিন্তু বাঁধের কাজ বাকি রয়ে গেছে। চলতি বছর ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার অর্ধশত হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল
- আপলোড সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০৩:৫৬:৫০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০৩:৫৮:২১ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ